|
আপনি এখানে: হোমপেজ » এইচএসসি » বাংলা ১ম পত্র » হৈমন্তী » হৈমন্তীর চরিত্র বিশ্লেষণহৈমন্তী চরিত্রটি গল্পের প্রধান চরিত্র। এই চরিত্রটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে। |
|
স্যাম্পল নোটবাংলা ছোটগল্পের সার্থক রূপকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সমাজ মনস্ক দৃষ্টিতে ‘হৈমন্তী’ গল্পের নামচরিত্রকে সমাজের সাধারণ পরিবেশের মাঝে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সরল, শুভ্র, কোমল, উদার হৈমন্তী চরিত্রকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সমাজ সংসারের নিষ্ঠুরতা ও বিষবাষ্পের মর্মান্তিক ইতিকাহিনীর সৃষ্টি করেছেন।(পিতৃভক্ত:) মা-হারা হৈমন্তীর হৃদয় মন জুড়ে ছিল তার পিতা গৌরীশঙ্কর বাবু। পিতার ব্যক্তিত্বের পরশে তার জীবনও সংস্কারহীন উদার মানসিকতায় গড়ে উঠেছিল। কন্যাকে গৌরীশঙ্কর মানুষ হবার শিক্ষা দিয়েছিলেন। মিথ্যাচার, কপটতা, অন্যায়ের সাথে আপোসকামিতার শিক্ষা তাকে দেন নি। (দৃঢ় ও সত্যনিষ্ট:) হিমালয়ের পাদদেশে বেড়ে উঠা হৈমন্তী চরিত্র হিমালয়ের মত দৃঢ়তা ও সত্য নিষ্ঠা পেয়েছে। তাই সে মিথ্যার সাথে কখনো আপোস করে নি। এমনকি মিথ্যা কিভাবে বলতে হয় তাও সে জানতো না। তাই সে শাশুড়ীর ইশারাতেও কারো সামনে বয়স লুকায়নি, কারো চোখ রাঙানোতেও সে সত্য থেকে সরে আসে নি। (পতিভক্ত:) হৈমন্তী পতিপ্রেমে অনুরক্ত ও মুগ্ধ। হৈমন্তীর ভালবাসা ছিল বিস্তৃত, কোনো সংকীর্ণতা ছিল না। তাইতো অপু বলেছে: “সে যে আমার সাধনার ধন ছিল। সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।” (রুচিশীল:) ‘রুচিশীলতা’ হৈমন্তী চরিত্রের অন্যতম গুণ। সে বই পড়তে ও লোকজনকে খাওয়াতে পছন্দ করতো। সংসারের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে তার মন ছিল। সে সকলকে খুশি করার চেষ্টা করতো। (ধৈর্যশীলা:) ‘হৈমন্তী’ চরিত্রটি সহিষ্ণুতার মূর্ত প্রতীক। শ্বশুরবাড়ীর অপমান লাঞ্ছনা সে মুখ বুজে সহ্য করেছে। অপুর ভাষায়, “হৈম যে অন্তরে মুহূর্তে মুহূর্তে মরিতেছিল।” কিন্তু সে কখনো তা প্রকাশ করে নি। (নিরহংকার:) অহংকার করার মত রূপ, ঐশ্বর্য ও শিক্ষা ইত্যাদি থাকতেও হৈমন্তী নিরহংকার ছিল। কোনো কিছুতেই তার মন সংকীর্ণ হয় নি। পরিশেষে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হৈমন্তী চরিত্রটি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তাঁর অসামান্য প্রতিভার পরিচয় রেখেছেন। স্বভাবের কোমল মাধুর্য দিয়ে সংসারের উগ্রতাকে জয় করতে চেয়েছিল হৈমন্তী। কিন্তু লোভ, লালসা, নিষ্ঠুরতা ও সংকীর্ণতার যুপকাষ্ঠে একটি নিষ্পাপ হৃদয়কে বলি দিতে হল। হেমন্তের শুভ্র-ধূসর মেঘের বিষাদঘন উদারতা, শারদীয়া বিজয়ার পর বিসর্জনের সানাইয়ের সাথে ফুটে উঠেছে হৈমন্তী চরিত্র। আরো কিছু কথাহৈমন্তী আমাদের আন্টি নন যে তার নামের বানান নিজের ইচ্ছেমত লেখা চলবে। দীর্ঘ ঈ-কার ( ী) দিয়ে লিখতে হবে, ভুলে যেও না যেন। আরো কিছু বানান খেয়াল রেখো:সার্থক রূপকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনস্ক ঊর্ধ্বে ধৈর্যশীলা শাশুড়ী শ্বশুর মুহূর্ত গুণ সংকীর্ণ বাংলা শব্দের বানানে দুটি উ-কার/ই-কার থাকলে সাধারণত হ্রস্বটি আগে হয় এবং দীর্ঘটি পরে আসে। যেমন ‘মুহূর্ত’ বানানে প্রথমে উ-কার এবং পরে ঊ-কার হয়; ‘বিনীত’ বানানে প্রথমে ই-কার পরে ঈ-কার আসে। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে, যেমন নীতি, বহুব্রীহি ইত্যাদি। এটা যেহেতু সাহিত্যভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর তাই পয়েন্টের নাম দেয়া উচিৎ হবে না। তবে পয়েন্টের ব্যাখ্যায় প্রথম লাইন পড়েই যাতে পয়েন্টের বিষয় সম্পর্কে শিক্ষক বুঝতে পারেন সেজন্য প্রথম লাইনেই আভাস থাকতে হবে। যেমন উপরের নোটে একটি পয়েন্টের শুরুতে দেয়া হয়েছে: “ ‘রুচিশীলতা’ হৈমন্তী চরিত্রের অন্যতম গুণ। ” এটা যেহেতু বড় প্রশ্নের উত্তর, কাজেই এটি কমপক্ষে ৬ পৃষ্ঠা লিখতে হবে। সেজন্য তোমার প্রয়োজন অনুযায়ী বর্ণনা বাড়িয়ে-কমিয়ে নাও। চাইলে আরো কোটেশন (উদ্ধৃতি) যোগ করতে পারো। হৈমন্তী মারা গিয়েছে কিনা তা যেহেতু গল্পে উল্লেখ করা নেই কাজেই মৃত্যুর কথা না বলাই ভাল। অনেক নোটে বা গাইডে লেখা আছে হৈমন্তীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ছোট গল্পে সাধারণত শেষটা পরিস্কারভাবে দেখানো হয় না। রবীন্দ্রনাথও এ কথা স্বীকার করেছেন। তাই এ গল্পে হৈমন্তীর পরিণতি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাই লেখার সময় ‘হৈমন্তীর অকাল পরিণতি’ এভাবে লেখা যেতে পারে। শেষের লাইনটা বুঝেছো তো? হেমন্তের শুভ্র-ধূসর মেঘের বিষাদঘন উদারতা, শারদীয়া বিজয়ার পর বিসর্জনের সানাইয়ের সাথে ফুটে উঠেছে হৈমন্তী চরিত্র। কিছু শব্দার্থ দেখো: শুভ্র-সাদা শারদীয়া (স্ত্রী লিঙ্গ)-দুর্গাদেবী, সরস্বতী শুভ্র মানে সাদা, অর্থাৎ পবিত্র ও বিষাদঘন উদারতাকে বোঝানো হয়েছে, হৈমন্তীর চরিত্র যেন হেমন্তের সাদা মেঘের মত। হিন্দু ধর্মে দুর্গার প্রতিমা বা মূর্তিকে বিসর্জন দেয়া হয়। এখানে অপুর ‘সীতা বিসর্জনের’ কাহিনীর সাথে প্রতিমা বিসর্জনের সেই ঘটনার যোগসূত্র করা হয়েছে। রেফারেন্স:- শিক্ষাভূবন, দৈনিক ইত্তেফাক, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৭- হ্যান্ডনোট, মোক্তার স্যার, বাংলা বিভাগ, নটরডেম কলেজ, ঢাকা Author: Adnan Shameem লেখক: আদনান শামীম এই পেজটি সর্বশেষ এডিট করা হয়েছে ১৯ ফেব্রু ২০১০ ১১:৪৫ pm |
|










